ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ আর্কাইভ
হোম  »  অপরাধআন্তর্জাতিক

অপহরণ চক্রে জড়িত ২০ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সৌদি আদালতের ফাঁসির রায়

সৌদি আরবে অবস্থানকালে একটি চক্রের হাতে অপহরণের শিকার হন এক প্রবাসী। এরপর বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও শ্বশুরের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ৫০ লাখ টাকা। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে (এমএফএস) দেয়া হয় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এরপর আবার সৌদি আরবেই ছাড়া পান অপহৃত ব্যক্তি। এমন একটি ঘটনায় চক্রের সদস্য মো. জিয়াউর রহমানকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলার শালিথা থানার হরিপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত ক‌রে অভিযুক্ত‌কে গ্রেফতার করা হ‌য়ে‌ছে।’

মামলায় বা‌দি উল্লেখ করেন, বাদীর মেয়ের জামাই ২০ বছর ধ‌রে সৌদি আরবে বসবাস করেন এবং সেখানে নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি সকালে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাদীর মেয়ের জামাই রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহর থেকে অপহরণ করে। পরে রাসেলের বড় ভাই সাইফুল ইসলামের কাছে অজ্ঞাত ইমু আইডি এবং ভিওআইপির মাধ্যমে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। না হলে রাসেলের ক্ষতি করাসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মুক্তিপণের অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে তারা বাংলাদেশের কিছু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেয়।

পরবর্তীতে বাদী, রাসেলের বড় ভাই সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপায়ন্তর না পেয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের মুক্তিপণ দিতে রাজী হয়। সাইফুল ইসলাম খিলগাঁও ঝিলপাড় এলাকা থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে সর্বমোট ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং অপহরণকারীদের দেয়া ব্যাংক হিসাবে মোট ২৫ লাখ টাকা দেন। সর্বমোট ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ পেয়ে ভুক্তভোগী রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দেয়। চলে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা আসামিরা রাসেলের হাতের ছাপ এবং আকামা আইডি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে অপহরণের ঘটনা ফাঁস হলে আবারও খুন ও জখমের ভয়ভীতি দেখায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে গিয়ে পরিবারকে সমস্ত কিছু জানালে ভুক্তভোগী রাসেলের শ্বশুর বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় গত জানুয়ারির ২১ তারিখে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তে সিআইডি জানতে প‌রে, অপহরণকারীরা যে সমস্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেন। সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণসহ দেশে এবং বিদেশে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালীন অপহরণকারীদের দেয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করে আসামি মো. জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার ক‌রে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়াউর সৌদি আরবে অবস্থিত অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে মুক্তিপণ থেকে ৫ লাখ টাকা কমিশন গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মো. জিয়াউর রহমানসহ এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতার ২ জন আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) ইউনিট পরিচালনা করছে। মামলার অপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত
বাংলাদেশি একটি গ্যাংয়ের ২০ সদস্যের বিরুদ্ধে সৌদি আদালত
মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রবাসী সমাজে এই খবরকে অনেকেই স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন।
কারণ এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ শ্রমিকদের অপহরণ করে
টাকা আদায় করত বলে অভিযোগ ছিল।
সূত্র বলছে—
এদের সঙ্গে নাকি কিছু অসৎ প্রবাসী ও দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির
যোগাযোগ ছিল। ঠিক এ কারণেই অনেক অপরাধ বহুদিন চাপা থেকেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিল—
অপরাধ করে কেউ রক্ষা পাবে না।
প্রবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন শক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল।
অপরিচিত কারও সাথে যাতায়াত, লেনদেন বা কাজের প্রলোভনে যাবেন না।
নিজেকে নিরাপদ রাখুন—অপরাধী চক্রের ফাঁদ থেকে দূরে থাকুন।