ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ আর্কাইভ
হোম  »  বাংলাদেশ

কড়াইলের আগুনে সব হা‌রি‌য়ে খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কড়াইল বস্তির আগুনের প্রায় ১৫০০ ঘর-বাড়ি পুড়েছে। এতে সব হারিয়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন খোলা মাঠে। সেখানে ঘরপোড়া মানুষের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে কড়াইল বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেন্টেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর কড়াইল বস্তির আগুন। তার আগে আগুনে বস্তির প্রায় ১৫০০ ঘর-বাড়ি পুড়েছে। আগুনে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বউবাজারের কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ‘ক’ ব্লকের বাসিন্দারা কেউ কাছের খামারবাড়ি (ঈদগাহ) মাঠে, অনেকে এরশাদ স্কুলমাঠ কিংবা মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। খামারবাড়ি মাঠে গিয়ে শতাধিক পরিবারের সদস্যদের মালপত্র নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

পরে টিঅ্যান্ডটি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে ছিল ঘর থেকে আনা কিছু মালপত্র ও আসবাব। মশার কামড়ের পাশাপাশি হালকা শীত থেকে বাঁচতে কাঠ, প্লাস্টিক পুড়িয়ে তারা মাঠে বসে আছেন।

আগুনে ক্ষ‌তিগ্রস্ত বাসিন্দা লাভলী বলেন, আমার সব পুইড়া শ্যাষ, কিচ্ছু নেই। সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। অনেক কষ্টে তিল তিল করে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনেছিলাম। আগুন আমার সব শ্যাষ করে দিলো।

খামারবাড়ি মাঠে অটোরিকশাচালক রবিন শেখ জানান, তাদের ঘরটা কুমিল্লা পট্টির মায়ের দোয়া স্কুলের পাশে। সাড়ে পাঁচটার দিকে তাদের ঘরের কাছেই আগুন ছিল। রাত ৯টার দিকে কথা বলার সময় জানালেন, ঘর এতক্ষণে পুড়ে গেছে হয়তো। কারণ, যখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন, তখনই আগুনের তাপে ঘরে থাকা যাচ্ছিল না। সেখানে তাদের ভাড়া করা তিনটা ঘর একসঙ্গে ছিল বলেও জানান তিনি।

এ সময় রবিনের স্ত্রী নুরেনা বেগম বলেন, আগুন লাগে বরিশাল পট্টি থেকে। আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঘর থেকে দুটি র‍্যাক ছাড়া কিছুই আনতে পারিনি।